আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক ও কূটনৈতিক ডেস্ক | বাংলাদেশ প্রতিদিন
প্রকাশিত: ২৪ জুন, ২০২৬
দীর্ঘ চার মাস ধরে তীব্র যুদ্ধাবস্থা ও অবরুদ্ধ দশার পর অবশেষে মধ্যপ্রাচ্যের রণকৌশলগতভাবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি থেকে আটকে পড়া ১১ হাজারেরও বেশি আন্তর্জাতিক নাবিককে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার এক বিশাল ও যুগান্তকারী উদ্ধার অভিযান শুরু করেছে জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থা (IMO)। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সুইজারল্যান্ডে দীর্ঘ ১৮ ঘণ্টার স্নায়ুক্ষয়ী বৈঠকের পর একটি বিশেষ সমঝোতা স্মারক (MoU) তথা দ্বিপাক্ষিক যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার পর এই ঐতিহাসিক মানবিক পদক্ষেপ নেওয়া হলো।
জাতিসংঘের সামুদ্রিক সংস্থা (আইএমও) নিশ্চিত করেছে, গত ফেব্রুয়ারি মাসের শেষ দিক থেকে পারস্য উপসাগরের এই জলসীমানায় শত শত বাণিজ্যিক জাহাজের সাথে আটকে থাকা নাবিকদের ধাপে ধাপে ও অত্যন্ত সুনিয়ন্ত্রিত উপায়ে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। দীর্ঘ সময় চরম অনিশ্চয়তা ও জীবনঝুঁকির মধ্যে সমুদ্রে ভাসমান থাকায় অবরুদ্ধ এই নাবিকদের সিংহভাগই তীব্র শারীরিক ও মানসিক চরম অবসাদ বা ট্রমার মধ্যে দিনাতিপাত করছিলেন।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সাথে ইরানের সামরিক সংঘাত ভয়াবহ রূপ নিলে ইরান সম্পূর্ণ একতরফাভাবে হরমুজ প্রণালির আন্তর্জাতিক নৌপথটি কার্যত বন্ধ করে দেয়। বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম মূল ধমনী হিসেবে পরিচিত এই সংকীর্ণ জলপথটি আকস্মিক বন্ধ হয়ে যাওয়ার ফলে তেলবাহী ট্যাংকারসহ শত শত আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ পারস্য উপসাগরের উভয় প্রান্তে আটকা পড়ে। যার সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়ে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ চেইন ও আন্তর্জাতিক পণ্য পরিবহনের বাজারে। বিশ্বজুড়ে দেখা দেয় জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট।
আইএমও-এর মহাসচিব আর্সেনিও ডোমিঙ্গুয়েজ গত মঙ্গলবার (২৩ জুন) এক বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছেন, "এই বৃহৎ উদ্ধার ও ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ অভিযানটি ইরান, ওমান, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং এই অঞ্চলের সমস্ত উপকূলীয় রাষ্ট্রগুলোর সাথে গভীর ও নিবিড় সমন্বয়ের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে।" তিনি আরও নিশ্চিত করেছেন যে, সমস্ত পক্ষের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তা পাওয়ার পরেই এই নিরাপদ নৌ-চলাচল প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে।
ওমানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সামরিক অ্যাডভাইজরি অনুসারে, বর্তমান যুদ্ধ-পরবর্তী জলসীমায় জাহাজগুলোর একে অপরের সাথে মুখোমুখি সংঘর্ষের (Collision) উচ্চ ঝুঁকি থাকায় অত্যন্ত ধীর ও নিয়ন্ত্রিতভাবে এই উচ্ছেদ বা চলাচল প্রক্রিয়াটি ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। ওমান জানিয়েছে, পূর্বের ১৯৬৮ সালের ট্রাফিক সেপারেশন স্কিমটি বর্তমান পরিস্থিতির মাইন বা অন্যান্য বিস্ফোরক ঝুঁকির কারণে নিরাপদ নয়; তাই সাময়িকভাবে এর উত্তর ও দক্ষিণে দুটি বিকল্প অস্থায়ী রুট ব্যবহার করে জাহাজ ও নাবিকদের পার করা হচ্ছে। এই পুরো আন্তর্জাতিক নৌ-উদ্ধার অভিযানটি সফলভাবে সম্পন্ন হতে আরও বেশ কয়েকদিন সময় লাগতে পারে।
এদিকে, এই যুদ্ধবিরতি ও সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরের পরপরই বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন করে বাগযুদ্ধ শুরু হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স দাবি করেছেন, এই চুক্তির আওতায় ইরান তাদের পারমাণবিক স্থাপনায় পুনরায় জাতিসংঘের পরিদর্শকদের (IAEA) প্রবেশাধিকার দিতে সম্মত হয়েছে এবং চুক্তির শর্ত হিসেবে আমেরিকার কৃষকদের কাছ থেকে সয়াবিনসহ বিপুল পরিমাণ খাদ্যপণ্য কিনতে বাধ্য থাকবে।
তবে ওয়াশিংটনের এই দাবিকে সরাসরি নাকচ করে দিয়েছে তেহরান। জাতিসংঘের জেনেভা দফতরে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত আলী বাহরাইনি কড়া ভাষায় বলেছেন, "মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে আটকে থাকা ফ্রিজড অ্যাসেট বা অর্থ কীভাবে ব্যবহার করা হবে, তা সম্পূর্ণ ইরানের নিজস্ব সার্বভৌম সিদ্ধান্ত। এখানে আমেরিকার কোনো শর্ত খাটবে না।" পাশাপাশি মার্কিন সেক্রেটারি অব স্টেট মার্কো রুবিও সংযুক্ত আরব আমিরাতে পৌঁছে স্পষ্ট হুশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, "হরমুজ প্রণালি একটি আন্তর্জাতিক নৌপথ। ইরানকে কোনোভাবেই এই জলপথ ব্যবহারকারী জাহাজের ওপর কোনো শুল্ক বা টোল আরোপ করতে দেওয়া হবে না।"
উদ্ধারকৃত নাবিকের সংখ্যা: ১১,০০০ জনেরও বেশি আন্তর্জাতিক নাবিক ও ক্রু।
মূল পরিকল্পনাকারী: জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থা (IMO) ও ওমান কোস্টগার্ড।
উদ্ধার অভিযানের কারণ: মার্কিন-ইরান সমঝোতা স্মারক (MoU) ও ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতি চুক্তি।
সংকটের সূত্রপাত: গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান কর্তৃক কৌশলগত হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণ অবরুদ্ধকরণ।
বর্তমান নৌ-নিরাপত্তা পরিস্থিতি: আন্তর্জাতিক শিপিং ইন্টেলিজেন্স ‘কেপলার’ (Kpler) জানিয়েছে, সোমবার একদিনেই সর্বোচ্চ ৩৬টি বাণিজ্যিক জাহাজ সফলভাবে প্রণালি পার হয়েছে।
প্রধান নিরাপত্তা ঝুঁকি: যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যবহৃত পানিতে ভাসমান মাইন (Floating Mines)।
আন্তর্জাতিক নৌ-কূটনীতি বিষয়ক বিশেষ প্রতিনিধি: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণ উন্মুক্ত হওয়ার লাইভ শিপ ট্র্যাকিং আপডেট, মার্কিন-ইরান শান্তি চুক্তির পরবর্তী ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণ, বিশ্ববাজারে তেলের বর্তমান মূল্যতালিকা এবং আন্তর্জাতিক সব এক্সক্লুসিভ ব্রেকিং নিউজের দ্রুত আপডেটের জন্য নিয়মিত ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |